চিড়িয়াখানা অথচ নেই কাঁটাতারের বেড়া । বড় বড় প্রাণীরা দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছে। চাইলে হাত দিয়ে স্পর্শ করার চেষ্টাও করতে পারেন। সত্যিকারের বনের ফুল ও পাতার গন্ধ আসবে নাকে। সব কিছু সম্ভব হয়েছে হলোগ্রাম প্রযুক্তির সাহায্যে। জানাচ্ছেন আল সানি
ডাইনোসর থেকে গরিলা—কী নেই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের হলোগ্রাম চিড়িয়াখানায়? প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি পঞ্চাশটি জলজ্যান্ত প্রাণীর অনবদ্য প্রদর্শনী হচ্ছে এখানে। সব কিছুই করা হচ্ছে হলোগ্রাম প্রযুক্তিতে। কর্তৃপক্ষ এটির নাম দিয়েছে হলোগ্রাম শো। সব কিছু বড় আকারে দেখানোর পেছনে কাজ করছে বিশেষ ডেপথ টেকনোলজি।
হলোগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রধান নির্বাহী ব্রুস ডেল বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সবচেয়ে আধুনিক থিম পার্ক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে চিড়িয়াখানাটি। এখানে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগে অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয়নি।
পুরো প্রকল্পটি ম্যাজিকের মতো মনে হলেও এটিকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা ভিআরের সঙ্গেও তুলনা করা চলে। মূলত হলোগ্রাফি আর কম্পিউটারের যৌথ প্রচেষ্টা এটি। হলোগ্রাফি বিশেষ এক ধরনের ফটোগ্রাফিক প্রযুক্তি, যা যেকোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এসব ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব লেজার রশ্মির সাহায্যে আলোক মাধ্যমে নিক্ষেপ করা হয়, যা চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের চোখে ধরা পড়ে। আর এই পুরো প্রক্রিয়া ‘হলোগ্রাম’ নামে পরিচিত।

ব্রুস ডেল বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের কম্পানি বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এবং ইউএস করপোরেশন হানিওয়েলের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সেই সঙ্গে মালদ্বীপে বিল গেটসের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল হোটেলের জন্য অ্যাকোয়ারিয়াম নির্মাণের চুক্তিও আছে। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে তা কমিয়ে আনার জন্য অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে একটি কারখানার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
বর্তমানে প্রচলিত চিড়িয়াখানাকে অনেকেই অমানবিক বলেন। সে কারণে চিড়িয়াখানার মতো প্রকল্পে হলোগ্রাম বিপ্লবের আশা করছে কর্তৃপক্ষ। যদিও হলোগ্রাম অনেক ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে ব্যয় কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে আশা করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

0 Comments